ভাদ্র মাসে জামাকাপড় রোদে দিতে হয়। কারণটা সহজ সবে সবে বর্ষা গেল কিনা। এইবার এক রবিবারে ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই আন্দোলন শুরু। মশারি বের হল। বালিশ, তোশক একে বাড়ির বাইরে মাঠে ঘুরতে যাচ্ছে। কাপড় টাঙাবার জন্য বাশ বাধা আছে। গোল পোস্টের মত। চৌকির ওপর থেকে বেরোয় চালের বস্তা, শীতল পাটি। দু একটি আরশোলা এদিক ওদিক পালিয়ে যায়। আমার এক বন্ধুর চুল আরশোলা বরবাদ করে দিয়েছে। মা বলে হা করে দেখছিস কী আলমারির কাপড়গুলো দিয়ে আয় রোদে।
শুধু কাজটুকু হবে, আর সে সূত্রে কোনো কথা হবে না, সে হয়? মা একেকটা জিনিস বের করতো। আর বলতো, জানিস এটা অমুকে দিয়েছে। এটা তুই যখন খুব ছোটো... বাবা চারমিনারে একটা টান মেরে যোগ দিয়ে বলছে- এটা সেইবার পুজোর বোনাস পেয়ে কিনেছিলাম না, আবার হ্যা এটা আমাকে অমুকে বানিয়ে দিয়েছে। হাট করা আলমারি থেকে লাফিয়ে পড়ছে সময়, মা আর বাবা ধারাবিবরণী দিচ্ছে।
লেপ, তোশক থেকে ধুলো ঝাড়তে হয়। রোদে ধুলো মিশতে থাকে। মা বলে মুখ চাপা দে। আমাকে সরিয়ে দেয়। ঘরে ফিরি। অগোছালো ঘরের জিনিসেরা কাছে ডাকে।
মা কিছুই ফেলতে পারে না হাতে ধরে। শাড়ি, কাপড় নিয়ে বাসন দেয় যারা তারা এলে মা বড্ড দ্বিধাতুর হয়। পরনের কাপড় এভাবে দেওয়া যায়! কেউ কোনো উপহার দিলে তা রেখে দিতে হয়।
শেষ দুপুরে আস্তে আস্তে আবার ঘরে ফেরে ঘরছাড়ারা। মা বলতে থাকে দ্যাখ এটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। বাবা বলে এবার বালিশটা ঠিক আছে। মা ট্রাংকের ভেতর বিয়ের শাড়ির গন্ধ নিতে নিতে আশ্বস্ত হয়। বলে দ্যাখ এই যে কড়িগুলো।
মেসে সেদিন মাসি বলছিল জামাকাপড় ছাদে দিতে। ইচ্ছে করছিল না। রোদ মাখা সম্পর্কদের পুজোয় কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাব সেটা আগে ভেবে নিই!
No comments:
Post a Comment