আমাদের গলিরাস্তা, ছোট মাঠ, ভাঙা পাঁচিল, নয়ানজুলি, কচুবন আর কলমি গাছের ভেতর বল হারিয়ে যেত। খেলার বল। বালিশের পাশে নতুন বল নিয়ে ঘুমোতাম। রবার ডিউস বলের থেকে লাল রং উঠতো। বল যত পুরনো হবে তত যেন মায়া ফুটে বেরোবে। এক একদিন বল খুঁজতে গিয়ে পেয়ে যেতাম অন্য কোনও বল। যা হারিয়ে গিয়েছিল তা মেনে নিয়েছি। হঠাৎ একদিন ফিরে পেলে কেমন একটা হয়। সেটা দিয়ে তখনই খেলা যায় না, আবার ফেলে দেব সেটার সাধ্য নেই। সন্ধে বেলায় ফিরে পাওয়া বলটিকে আলাদা করে খাটের পায়ার নিচে ইটের আড়ালে রেখে দিতাম। ভালো লাগতো হঠাৎ- দেখায়। কষ্ট হতো হঠাৎ পাওয়ায়। সেদিন বলটি হারিয়ে গিয়েছিল বলে আমি সারা বিকেল ফিল্ডিং করেও ব্যাটিং পাইনি।
আমি কেবল ভাবি বল তাও হারিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু ব্যাট? ব্যাটের বুকের ক্ষত ঢেকে আমরা লটারি করতাম। মাটির ওপর সেই দাগগুলো থেকে যায়। আবার সেই দাগের পাশে অন্য দাগ। লটারি, খেলা। বেলাশেষে বৃষ্টি না নামা অব্দি সে দাগগুলো থাকতো। আমরা ভাবতাম আবার হয়তো কোনও পুরনো পিং পং বল ভেসে উঠবে। আবার... আবার...
নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণায় হৃদয়ে কাটা দাগের কথা বলা হয়নি। আয়নার গায়ে লেগে থাকা টিপগুলো তারা... কান্না পাহারা দেয় সম্পর্কের সর্বনাম।
দুঃখেরা কেবল নিজেকে ভালবাসে। মানুষ দুঃখ ভালবাসে।
No comments:
Post a Comment