Friday, 3 February 2017

স্মৃতি লেখা

আমরা তাকে ব্যোমপুলিশ বলতাম, ঠিক সাড়ে তিনটের সময় আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে সে হাজির হতো। কাঁচাপাকা দাড়ি। পাগলাটে। বিড়বিড় করতো কী যেন। ভাঙা আইসক্রিম এক টাকায় তিনটে। ভাগাভাগি করে জিভ লাল আমাদের। আরেক জন জেঠু ছিলেন, হোমিওপ্যাথির গুলি দিতেন। আমরা উন্মুখ হয়ে হাত পাততাম। বাবুল নিতাই কুলপি মালাই রাস্তা দিয়ে গেলে আমাদের সে কী দৌড়। বরফ শেষ। কাঠির থেকে রোয়া উঠে আসছে, আমরা মাইকের কথাগুলো বলতে বলতে পাড়ার সীমানায়। আমাদের খেলাগুলো যখন তখন স্টপ, যখন তখন স্টার্ট। ফিল্ডিং দিয়ে ব্যাটিং না পাওয়ার দু:খের চেয়ে বড়ো কিছু নেই। বল হারিয়ে গেলে নি:স্ব মনে হতো। খুঁজে পেলে হোক কলরব।
স্কুলের ব্যাগে বন্ধুরা আরেক সেট জামা রাখতো কেউ কেউ। পুকুরে সাঁতার কেটে, কিংবা সিনেমা দেখে বাড়ি। আমাদের নাইন টেন একটি পরোটায় তিনবার ফ্রি তরকারিতেই খুশি ছিল। চোঙা প্যান্ট আর ম্যায় হু না ব্যাগের সে সব দিন। সাইকেল সাইকেল। বাড়ি বাড়ি ক্রিং ক্রিং। মোবাইল আসেনি। বন্ধু খুঁজতে যার বাড়ি যাওয়া সেও বন্ধু হয়ে যেতো।
ফুচকাওয়ালার হাতের বুড়ো আঙুলের চিন্তা আমাদের ছিল না। আচার খেতে খেতে অনায়াসেই কাগজের একটা স্তর উঠে যেতো জিভে। স্বাদের ভাগ হয় এটাই জানতাম। স্কুলের দরজার পাল্লায় কাচামিঠে আম রেখে ভাগ বাঁটোয়ারার সেই সব দিন মনে পড়ে।
কমলা লেবুর খোসা হাতে আবার স্কুল করিডরে ফিরতে ইচ্ছে করে। সত্যি চোখের জলেও কত আনন্দ মিশে থাকে!

No comments:

Post a Comment