হাগু আর হিসু কবে থেকে টয়লেট হলো, সে এক গবেষণার বিষয়। ছোটবেলায় আমাদের কিছু পেলে আঙুল দেখিয়েই বোঝাতাম। আর এই অছিলায় ক্লাস ফাঁকি দেয়নি, এমন কেউ হয়তো নেই। স্কুল থেকে বহুমূত্র আমাদের সঙ্গী হয়ে গেলো।
প্যান্টে হাগু হয়ে গেছে, সারা করিডর জুড়ে মাছি ভ্যানভ্যানাচ্ছে, এমন সত্যি দেখাকে গল্পে আনবো না। বরং মনে করিয়ে দি, আমাদের শোবার ঘরের মিনিমাম একশো মিটার দূরে বড় বাথরুমের কথা। যেখানে যাওয়াটা ছিল অভিযান বিশেষ। বর্ষাকালে পেট মোচড় দিয়েছে, এদিকে কারেন্ট নেই, কলাগাছের পাতা এমনভাবে রয়েছে যে.... আমাদের ভুতেরা রান্নাঘর থেকে মাছ খেতো যেমন, আবার বাশঝাড়ের ভেতর ঘাড় ও মটকাতো। ঐসব সেরে হাত পা ঠিক মতো না ধুলে কী কী অনিবার্য আমরা জানতাম।
যেমন জানতাম কোথাকার জল কোথায় মেশে। খাটা পায়খানার সিঁড়ি হতো কাঠের তক্তা কিংবা সুপুরি গাছ কেটে। তিনধাপ উঠে তারপর বসে সহজেই দেখতে পাওয়া যেতো.... এটুকুতেই থেমে যাই।
ইদানীং হাচি দিয়েও সরি বলে অনেকেই। তাদের আর বলি না নস্যি নেওয়া দেখেছে কিনা। ঔচিত্যবোধ যে কালে কালে বদলায়, সে তো জানা। কেবল ভাবি এক ছাদের নিচে বসার ঘর, শোবার ঘর, রান্না ঘর, ঠাকুর ঘর ইত্যাদিকে কীভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে সময়। সবার আলাদা আলাদা আত্মপরিচয় খন্ডিত। ঠাকুমার ঘর, বাবার ঘর নামগুলো আর নেই।
এই সব দেখে আমার এক দিদা খুব খেপে যেতেন। তারপর হয়তো বলতেন - বাংগির খুপড়ি বানাইছে সব, এক ঘরে ফুস করলে অন্যঘরে ঘন্টা বাজবো।
পুনশ্চ - জোনাকিরা আর কোনোদিন অতিথিকে বাড়ির জানান দেবে না।
No comments:
Post a Comment