Friday, 3 February 2017

ডাকনাম


বড়মামা আমার ডাকনাম দিয়েছিলেন ডোডো। শান্ত, নিরীহ ডোডোপাখির কথা আপনারা জানেন। আগে ছিল তারা, এখন আর নেই। ডোডো থেকে কালে কালে আমার নাম হয়ে গেল ডুডু। প্রাইমারি স্কুলে ডুডুমার জলপ্রপাত বলে একটা লেখা পড়তে হতো। আমাকে খ্যাপাত সবাই। খুব একটা খারাপ লাগতো না। বরং...
ভালোনাম মুখস্থ করি, ডাকনাম মনে থেকে যায়। নিজেকে মানুষ কী নামে ডাকে? ডাকনামের শৈশব বাবু হয়ে বসে হা-ডুডু খেলে। সঙ্গীরা কাঁচপোকা চিনতে শেখায়। পকেটে রাখা কাগজে ডাকনামের এগারো। অক্ষর সংখ্যা বাইশ পেরোয় না সাকুল্যে। সাদা বাদবাকি অংশ জুড়ে রান জমতে থাকে। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ডাকনামের!
বয়স বাড়ছে। ডাকনামে ডাকার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। জন্মদিনে উপহার পাওয়া বইয়ের প্রথম পাতা আর হাতে তৈরি করা নববর্ষের কার্ড মনে পড়ে। নামের সূত্রে আসলে জীবন মনে পড়ে। যে জীবন আদরের, বিস্ময়ের, মৌখিক পরীক্ষা দিতে দিতে জানলা দিয়ে রেলগাড়ি দেখার...
যা হারিয়ে যায় তাকে আগলে বসে থাকব কতদিন?
মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকে যে তার হারানো মুখের কথা নাকি...
দিগন্তের দিকে যে পাখি উড়ে যায় আমি তাকে ডাকনামে ডাকি!

No comments:

Post a Comment