Sunday, 29 December 2024

‘জলের দাগ মনের দেওয়ালে সাবলীল ওয়ালপেপার’

 


সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কবি উদয় সাহার লেখা ‘ছাই ও ছায়ার পরবর্তী’। এই কবিতাপুস্তিকাটির প্রকাশক— ‘মুজনাই সাহিত্য সংস্থা’। মূল্য ৫০ টাকা।

        বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখালেখি করেন উদয় সাহা। পূর্ববর্তী কাব্যগ্রন্থ ‘পেজমার্ক’-এ মূলত তাঁর রোমান্টিক মনের পরিচয় পাওয়া যায়। মনে পড়ে তাঁর লেখা  ‘অধিক্ষেপ’ কবিতার শেষাংশ—“ওহে সাধুখাঁ, এটাই তো সময়/ আরো শক্ত করে হাতটা ধরবার/ আমাদের দুঃখগুলো জানালার সিট পাবেই।”

        ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখবোধ শিল্পের আঙিনায় কীভাবে ছাপ রেখে যায়, আলোচ্য পুস্তিকায় তার প্রমাণ মেলে। ‘দোস্তানা’ কবিতাটি শুরু হচ্ছে এইভাবে—‘তুমি আছো আর তুমি নেই এর দূরত্ব কতটা?’; আর কবিতার শেষে পাচ্ছি—“নতুন ফুলকপি জিতছে/সকালের লাল চা জিতছে/ কবিতা হারছে, বাবা’।

        ‘ছাই ও ছায়ার পরবর্তী’ কবিতাটি ‘একটি বুকভাঙা উদাসীন পথ’-এর কথা বলে। বিষণ্ণতার জ্যামিতি আঁকার মধ্যে কত দ্বিধা, কত দ্বন্দ্ব, কত বিভ্রম-- ‘নিজস্ব ঘুমে মশগুল হলে দেখি ভারমুক্ত স্বপ্নপথে ভেসে যায় চিতাকাঠ—’। সময়ের সরণী বেয়ে শোকের অনুষঙ্গে এক মহাজীবনের গল্প আঁকা হতে থাকে। সেখানে আছে ঘাসফুল, জলের দাগ, পুজোর ধূপকাঠি, রাত্রির বিস্ময় আরো কত কী! বাবাকে হারানোর পর কবির লেখায় যে মূলগত পরিবর্তন এসেছে, এই পুস্তিকা থেকে তা আন্দাজ করা যায়। সেইসঙ্গে এটাও বলার, ব্যক্তিগত শোকের প্রকাশকে শিল্পে উত্তীর্ণ করতে পেরেছেন কবি।

        এই অক্ষরপ্রয়াসে ছোটোবেলা আসে খুব স্বাভাবিক ভাবেই। ‘ধূলির সরগমে আঁকা’ কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে কবির নিজস্ব মেজাজ— ‘ভেবে দেখো কতটা গভীরে প্রোথিত হয়েছে স্মৃতিবৃষ্টির টুপটাপ—চুমুর আগে কাঙাল প্রেমিক, চুমুর পরে গ্রামদেশ…’।

         দশটি কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে ফর্মের ক্ষেত্রে পরীক্ষানিরীক্ষা ঈষৎ আরোপিত। যেখানে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে জোর দিয়েছেন, সেখানে তিনি অসাধারণ সিদ্ধির অধিকারী। কবি উদয় সাহার পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষায় রইলাম। শেষ করছি ‘ছাই ও ছায়ার পরবর্তী’র উৎসর্গপত্র উদ্ধৃত করে—

        আমরা কীরকমভাবে বেঁচে আছি

        অনির্বাণ জানে


        ছোট ছোট গল্পের গাদাগাদি

        রূপকথার মতন সুন্দর লাগে

 

        অসুখ হলে প্রত্যেকের সামনে একটা আয়না…

                             

                               সেই সব অসুখদের

Thursday, 24 October 2024

যাপনচিত্র

 



মাঠের ঢাল বেয়ে বল চলে যেত পুকুরের কাছে, বসন্তের দুপুর গড়ানো বিকেল পেলব হতে দেখি ট্রেনের জানলা থেকে। কোথাও কোনো বিরক্তি নেই । সাদা কালো ইউনিফর্মে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছে ছেলেরা। এই রঙ আমার স্কুল। ওড়না সামলে গাছের আড়ালে হেটে হেটে যাচ্ছে যে মেয়েটি, তার বাড়ি জানা হবে না কোনোদিন। আমরা জানলার পাশে বসে চলে যাওয়া দেখি।

কচুরিপানার ওপর কনে দেখা আলো। গোল পোস্টের ভেতর সূর্য ঢুকে যাচ্ছে বুঝি। পলাশ দেখলে আমার আগুন খিদের কথা মনে পড়ে। একের পর এক স্টেশন যায়, আমি ভাবি কখন পৌঁছুব, ভাবতে ভাবতে দেখি ট্রেন বাঁক নিচ্ছে, সে বাঁক আর শেষ হচ্ছে না...

নদীর ওপর ট্রেন গেলে ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করে। হাওয়া আসে। ইচ্ছেরা সম্বল খোঁজে। পায় কিংবা পায় না। বসন্তের বিকেল কেটে যায় ফেরার ট্রেনে, কিন্তু ফেরা হয়ে ওঠে না। কেবল আমার কামরায় রোজ এক অন্ধ গায়ক গাইতে থাকেন-- পথ হারাব বলেই এবার পথে নেমেছি!

ফেরা

 



ভাইফোঁটার পরেই স্কুল খুলে যেত সারাদিন হুল্লোড়ের পর মনে পড়ত- পুজোর ছুটির হোমটাস্ক কিছুই হয়নি যে! সব ভুলে আনন্দ করবার সেই দিনগুলো খুব মিস করি এই যে উৎসবের মরশুম আপাতত শেষ হচ্ছে, এই নিয়ে নিশ্চয়ই আমাদের মনখারাপ হচ্ছে কাফিদা একদিন ক্লাসে বলেছিলেনস্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হলে মনখারাপ হয়   

অবিরত উৎসবেও ক্লান্ত লাগে এত আলো, এত আয়োজনের ভেতর নতুনভাবে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করি প্রতিদিনের জীবনে যে দূরত্ব, ঈর্ষা, আড়চোখের চাউনিকে সহ্য করে নেওয়া যায়, উৎসবের দিনে তা বেশি করে ফুটে উঠলে অসহায় বোধ হয় তবে কি রুটিনমাফিক জীবনেই মুক্তি? সারা সপ্তাহ দশ ঘন্টা দৌড়ে শনিবারের কলেজ স্ট্রিটেই মোক্ষপ্রাপ্তি? কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না নিজেকেও না

এত ভিড়, শব্দ, ছবির থেকে দূরে আলপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছে যে ঢাকি, ইচ্ছে হয় তাঁর সঙ্গে যাই ঘরে ফেরা দেখি পাড়ার কুকুরের ল্যাজ নাড়ানো দেখি ভ্যানরিক্সার গায়ে নায়ক-নায়িকাদের ছবি থেকে আলো ছলকে পড়ছে মাটির উঠোনে আবার তারা ঘুরতে বেরোবে আগের মতো অভ্যস্ত প্রিয় জীবন! 

বক্তব্য


ফ্যান চালানোর দ্বিধা নিয়ে দাঁড়িয়ে একা হেমন্ত। তুমি মনখারাপের কারণ ও ফলাফল। মনে করা আর মনে পড়ার মধ্যে কত অদেখা অনশন।

লুকিয়ে থাকতেই ভালোলাগে আজকাল। বলতে না দেওয়াটাই যখন দস্তুর, শব্দের প্রয়োজন ফুরিয়েছে বুঝি। সোজাসুজি বলতে বিচার চাই।

প্রত্যাশার থেকে পালিয়ে গেলেই শান্তিনিকেতন, জানি। মানি একার পক্ষে সম্ভব নয় সকল সর্বনাশ সামাল দেওয়া। তবু চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে— তুমি আমার হলে না কেন? তুমি তো আমার হতেই পারতে। পেরেক দিয়ে আটকে সাধের মালা পরাতাম!

হারাই হারাই সদা হয় ভয়

 


(১)

শুনেছি আমার ঠাকুরদা দেশ ছেড়ে এসে আসামে চা-বাগানে চাকরি নিয়েছিলেন। তারপর চলে আসেন কোচবিহারে। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর যোগাড়। স্কুলে করণিকের কাজ জুটিয়ে কোনোক্রমে দিন কাটানো। ঠাকুরদা যেদিন মারা যান, সেদিন রাতে কচুর লতি খেয়েছিলেন। আর হ্যাঁ, সিন্দুক থেকে বেরিয়েছিল প্রচুর লটারির টিকিট। কোনো নম্বর মেলেনি কখনোই...

(২)

বাবা ছিল বড়ো ছেলে। দীর্ঘদিন যৌথ পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও আমাদের ছাড়তে হল বাড়ি। পুকুর লাগোয়া যেখানে আমরা ভাড়া থাকতাম, মা ভয় পেত খুব। একমাত্র ছেলে যদি হাঁস চলার পথ ধরে জলে গিয়ে পড়ে...

ভাড়াবাড়ি পাল্টে যায়। পাল্টে যায় ঠিকানা। নতুন জায়গায় গেলে প্রথম প্রথম খেলা নিতে চায় না। পরে ভাব হয়ে যায় কিন্তু ভাড়াটিয়া পরিচয় আর মোছে না। চাঁদার রসিদে ওরা নিজের মতো ভাড়াটিয়া কথাটি লিখে রাখে। আমরা খারাপ পাই না। সব অভ্যেস। শুধু পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্না দেখতে দেখতে মনে হয় এই আকাশটা আমাদের নয়। এই বারান্দা আমাদের নয়। আমাদের শুধু বাড়িওয়ালার মুখে ‘আর রাখব না’ বলার ভয়।

(৩)

আসামে আমার মামাবাড়ি। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও সর্বদেহেমনে অস্বস্তি। যেন ভুল জায়গায় থেকে যাওয়া কিছু মানুষ। অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে করতে ভালোবাসার বর্ণমালা ভুলে যাবার যোগাড়। এখন আবার অতীত খুঁড়ে কাগজ বের করতে হবে। সবাই প্রমাণ চায়। বেঁচে থাকার কষ্টের প্রমাণ অনন্ত নীরবতা।

(৪)

কলকাতায় পড়তে এসেছি। মেসে থাকি। মাসি না এলে হোটেলে লাইন দিতে হয়। শীতের কুয়াশার মধ্যে দেখি ভাত ফুটছে তো ফুটছেই। মায়ের কথা মনে পড়ে খুব। বুঝে গেছি আর কোনোদিন বাড়ি ফিরতে পারব না। আমার ঠাকুরদা আর বাবার আলাদা দেশে বাড়ি—আমার অবশ্য তা নয়। কিন্তু আমার মেয়ে যে আমার ছেলেবেলার উঠোন দেখতেই পারবে না। ফ্ল্যাট হয়ে গেছে যে!

(৫)

বরানগরে পুরোনো দিনের এক স্কুল দেখেছিলাম, যার সামনে ঝরা পাতার পাহাড়। শীতের রোদ খেলা করছে ভাঙা সিঁড়িতে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম এই অসামান্য দ্বিতল প্রাসাদ কোনো এককালে বাংলা মাধ্যমের স্কুল ছিল। গল্পের মতো ইস্কুলবাড়ি... ভাষা আর বাসা যে বড়ো কাছাকাছি!

(৬)

এ বড়ো সুখের সময় নয়। শাসকের বিরুদ্ধে মানুষ নেমে পড়েছে রাস্তায়।

এদিকে পোড়া বাসের সামনে ফুলের শরীরের ছবি চোখ থেকে কিছুতেই যাচ্ছে না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কি শুধু অভিধানেই মানায়? জানিনা। আমরা কেউ কারো কথা শুনিনা। বহুস্বর আশ্রয় পাবে কোথায়?

(৭)

হ্যাঁ প্রতিদিন ভয় পাই। ভাষা হারানোর। ভালোবাসা হারানোর। পূর্বপুরুষের দেশ ছাড়ার ট্রমা এখনও আমাকে ছেড়ে যায়নি। অবচেতনে এমনভাবে বসে আছে যে স্বপ্নে ফিরে ফিরে আসে। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। সবকিছু স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে ঈশ্বর জানেন। নিজের মনেই হাসি। উদ্বাস্তুর আবার ঈশ্বর থাকে নাকি? সেও তো পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়!

Wednesday, 23 October 2024

বিকেলের গন্ধ

বিকেলের সকাল তখন। চায়ের দোকান খুলেছে কেবল। আগুন জ্বলেনি। দুপুরের ঘুম শুরু হলেই টাইমকলে জল আসে।

বিকেলের দুপুরে মেয়েরা টিউশনের পথে। ফিরে ফিরে বিনুনি সামলানোর ব্যস্ততা।
সুপুরিগাছের মাথার ওপর দিয়ে যেসব পাখি উড়ে যেত ধানখেতের দিকে, তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। যে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে পুরাতন মানুষ, প্রমোটারের প্ল্যান আর নিয়তির প্রতিরোধ এড়িয়ে তার সামনে টহল দিচ্ছি ভাঙা সাইকেলে...
বিকেল সন্ধে হয়ে নামছে বিকেলে!



Monday, 21 October 2024

ভাঙাগড়ার খেলা

 


ভেঙে যাচ্ছি রোজ রোজ। হাড় থেকে মাংস খুলে আসা ভালো, মন থেকে বিশ্বাস চলে যাওয়ার চেয়ে। দাবি আদায়ের আন্দোলন ব্যক্তিগত পরিসরে এতটাই প্রবল যে অস্মিতা ধুলোখেলা করে। সাপেদের হিসহিস নিয়ে সম্পর্কেরা ফলিত জ্ঞান ঝাড়ে।

জানি প্রত্যাশারা বাজে। তবু এটি যে বাঁচিয়ে রাখে প্রাণ। আনচান করে খালি। চায়ের দোকান থেকে ভাঙা কাপ মিশে যায় ট্রেনের চাকায়। চুরমুর মাটির গল্পে আঙুল ছোঁয়া গল্পেরা ফরেন লিকার। নায়াগ্রায় ঘুরতে যায় বঙ্গলক্ষীরা। বেকার কবি পাগলী তোমার সঙ্গে ভেবে পাঁচিল ভেঙে মরে যায়। বার্লিন নেমে আসে বারান্দায়।

ঘুম কিনতে গেলেও টাকা লাগে। দুঃখ ভোলার নেশা আরো ঋণী করে তোলে। সমাজ কুকুরের ঘায়ের মত ত্যাজ্য করে ব্যর্থ মনোরথ। মানুষ এরপরও বাঁচে। পৃথিবী ধংস হবে ভেবেও যেভাবে আমরা অমর হতে চাই, তেমনই ঠিক ভাবি কেউ বুঝবে। বুঝবেই। ভেঙে যাওয়া আর ফুরিয়ে যাওয়া এক নয়! 

Tuesday, 15 October 2024

শুভ বিজয়া



দেয়ালের গায়ে নরম রোদ। স্পর্শ আছে, দহন নেই। বিশেষ বলতে বেঁচে থাকা। এক পুজো থেকে আরেক পুজোর মধ্যে হারিয়ে যাবে কত প্রত্যাশা, কত মানুষ, কত অকারণ মনখারাপ।
পুজো গুনে জীবন চালিয়ে নেব ভাবি। একটু আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হত আর কত সন্ধিপুজো বাকি!
আমরা এমনি এসে ভেসে যাই… উড়ে চলো নীলকণ্ঠ পাখি…



Saturday, 13 April 2024

বারোমাস্যা


বৈশাখ

বৈশাখী নামে যত মেয়ে দেখেছি তারা খুবই শান্তশিষ্ট গোছের। বৈশাখ বললেই রুদ্র তোমার দারুণ দীপ্তি ব্যাপারটা তাদের নেই। না থাকারই কথা। কেননা বৈশাখ মানে তো শুধু রোদ নয়, রবি ঠাকুর। রিকশা সারা সন্ধ্যে ভাড়া রয়েছে, শিল্পীরা একখানে গান গেয়েই... সহশিল্পীদের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন না। ভাবখানা এমন তিনি তো শুনছেন! ধুতি পরার সহজ উপায় এসে গেছে। গলিয়ে নিলেই হল। হুক্কাহুয়া বাঙালির পয়লা মানে একলা বৈশাখ। ব্রেড-বাটার ছেড়ে গরম লুচি। পিৎজা ছেড়ে সর্ষে ইলিশ। ওয়াও মোমোর জায়গায় মাটন। সন্ধেবেলা সংস্কৃতি। রাতে অ্যান্টাসিড। পঞ্জিকা বিছানার লাগোয়া টেবিলে। আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে বড় করুন, ছোটো করুন। পেটে চর্বি, মনে হিংসা, চুলে টাক, জিভে খিদে, চোখে লাজ, তলপেটে ব্যথা-- সব নিয়ে বছর শুরু। হাতে লাঠি মানে সমবেত নিজস্বীর জন্য। আরেকটা কথা বৈশাখীদের কথা ভুলেও ভাববেন না, যা দেখা যায় তা সবসময় সত্যি হয় না। মেগাসিরিয়ালের মতো।

জ্যৈষ্ঠ

জ্যৈষ্ঠ বললেই জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠ ভাব। আমার বাবা বাড়ির বড় ছেলে এই মাসে জন্মেছেন। আমার ধারণা হয়েছিল সব বড় ছেলেরাই জ্যৈষ্ঠ মাসে জন্মায়। ভুল ডাহা ভুল। এ মাসে জামাইরা জন্মায়। মানে অস্তিত্ব জানান দিতে বাধ্য হয় আরকি। সিল্কের পাঞ্জাবি ভিজে আমাকে দেখুন অবস্থা, কপালে চুল চেপ্টে আছে। অবিরাম টেনশন। শালা- শালিদের অ্যাটেনশন, শ্বশুরের অমৃতবাণী, শাশুড়ির আঁচলবাতাস, বউ-এর নিজের ঘরের মাঠে দ্যাখ কেমন লাগেগোছের মনোভাব সহ্য করেও প্রতিবার যেতে হয়। আম পাকে, লিচু পাকে, কাঁঠাল পাকে, পাখার বিজ্ঞাপন বারেবারে দেখানো হয় টিভিতে, কেননা দাম্পত্যে হাওয়া খুব জরুরি। গায়ের কাপড় ঘাম মুছতে ব্যবহার করা হয় বলে লজ্জা নিবারণের জন্য অন্য কিছুর কথা ভাবতে হয়। সরকার কোনও বার এই সময় গরমের ছুটি দেয় না। সামার ভ্যাকেশন যখন খাতায় কলমে, পাতে খিচুড়ি কেননা বর্ষা এসে গেছে!

আষাঢ়

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আর পেলে সবসময় উলটো কথা বলে। আষাঢ়ের শুরুতে তেমন ঝুমঝুম বৃষ্টি হয় না। নয়ানজুলি যৌবনে নয়, শৈশবেই আটকে থাকে। প্রেমিক প্রেমিকা ভিজবে বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে । ছাতার ওপর পাখির পটি শুকিয়ে যায়। পার্কে যায় পচা জলে বোটিং করতে। বাঁশি বাজার আগেই চকাস। রাস্তায় একা ষাঁড় হেলেদুলে চলতে থাকে। রথযাত্রা আসন্ন। লটকা ঢিল দিয়ে দেখে নেওয়া হয় বল বল খেলায় কার কতখানি দক্ষতা। রথ আর উল্টোরথে নিয়ম করে বৃষ্টি হয়। সে বৃষ্টিতে প্যাচপ্যাচে দশা, দাগ আচ্ছা হ্যায় ভেবে সাদা জামা কালো প্যান্টে কাদার জ্যামিতি। টিউশনের পথে অল্প স্বল্প গল্প হয়। সে হলুদ আলোর গল্পের বিষয় জানি না, সাজানো ঘটনা হতেই পারে; নিরাপদবাবু হয়ে বলা যায় সবই আষাঢ়ে গল্প’!

শ্রাবণ

শ্রাবণ মানে ভোলেবাবা পার করেগা। গ্যালন গ্যালন দুধ বাবার মাথায়। বৃষ্টি আসে। নায়িকাদের মনখারাপ। কেননা ফাস্টফুডের দোকানগুলি অনিয়মিত বসে। লোডশেডিং-এর উপদ্রব। ফোনে চার্জ না থাকায় চিত্ত অবসন্ন। নেতা নেত্রীদের এই সময় জনসভা না থাকায় তারা ইউরোপে যায়। কেউ বলে আবার শিল্প আনতে গিয়েছে। স্কুলে যাবার সময় বৃষ্টি আসে না বলে ছাত্রদের মনখারাপ। বিকেলে ওই মনখারাপ ছাড়া পায় মাঠে, পায়ে পায়ে আনন্দ ফুটবল। কাদা মাখে শৈশব। পুকুরগুলো ভরাট হয়ে গেছে প্রায় সব। কাগজের নৌকো ভাসানোর উঠোনগুলিও যে কংক্রিটের! রিকশা টুংটাং করে চলে কিছু। টোটো এসে গেছে তবুও যেতে যেতে পিছু ফেরার মত রূপকথার রিক্সারা। প্রেমিক প্রেমিকা ঘনিষ্ঠ হয়ে ত্রিপলের পর্দা টেনে দিতে থাকে। এদিক ওদিক করে জল ঠিক ভিজিয়েই দেয়। জামা কাপড় শুকোতে চায় না। ডিও-র বিক্রি বেড়ে যায়। ছাতা হারানোর গল্পে মাথারা ঠিক মেঘ বিদ্যুৎ ভর্তি খাতা!

ভাদ্র

ভাদ্র মাসে সারমেয়রা মনোযোগ আদায় করে নেয়। ছক হিসেবে এই মাসটি শরতের দলে কিন্তু এ মাসে বর্ষার যাই যাই ভাব তবু আছে। প্রতিবছর প্রায় বন্যা হয় এসময়। মন্ত্রীরা বিদেশ থেকে ফিরে আকাশপথে বন্যা পরিদর্শনে বের হন। ফটোগ্রাফাররা রাজপথে ভেলা নিয়ে কিশোরের ছবি তোলে। বাঁধ মেরামতের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকে কিন্তু কোনও বার পুরো কাজ হয় না। বাঁধের ওপর মানুষ গবাদি পশু নিয়ে অস্থায়ী আবাস বানায়। কুমারটুলিতে ঠাকুর বানানোর অসুবিধা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভাদ্র মাসে নাকি তাল পাকে। বেতাল পঞ্চবিংশতি পড়া হয় নতুনভাবে। জন্মাস্টমী আসে। বাড়ির গোপাল স্বপ্ন দেখাতে থাকে। শেষের দিকে আকাশ খুশি হলে ঘুড়ি ওড়ে। লাটাই এর ঘুড়ি হবার শখ নিয়ে দিন কেটে যায়।

আশ্বিন

শরৎকালে অকালবোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। ভাগ্যিস অকালেই করেছিলেন। নাহলে বসন্ত অব্দি ওয়েট করতে হত। যাইহোক আন্ডাবাচ্চা, সওয়া তেইশ থেকে সাড়ে চুয়াত্তর- সকলে নেত্য করে দুর্গাপূজা ভাবতে থাকে। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় দুর্গা বলার নিয়ম কিঞ্চিৎ শিথিল হয়। মহালয়ার সকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র শুনতে হয়, নাহলে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। ঘুম থেকে উঠে দেখি টিভিতে দুর্গা হিসেবে টলি নায়িকাদের। যারা প্রতিবছর পাল্টে যান। প্রণাম করতে ইচ্ছে করে না। লোভ হয় যদি মহিষাসুর হতামমরতে হলে এরকম পায়ের নিচে মরাই ভালো। রাগ করলে মেয়েদের এমনি যে ভালো লাগে তা আমরা সবাই জানি। জাম্বো সাইজের শারদ সংখ্যাগুলো বের হতে থাকে। শিউলি, নীলাকাশ, পেঁজা তুলোর মত মেঘ, সাবঅল্টার্ন ঢাকি কাকু ফিরে ফিরে আসে। চাঁদা আদায়কারীদের প্রতি দুচ্ছাই ভুলে যাই থেকে থেকে বারোয়ারির মানে। কৃপণ ধনী বেড়ে চলে। মহাষ্টমীতে অঞ্জলি দিয়ে পাঞ্জাবির হাত গুটিয়ে পেটপুরে খিচুড়ি খেতে হয়। নবমীতে আরতি। দশমীতে ভাংরা। টালমাটাল। আবার এসো মা। বাৎসরিক দুর্গাকেত্তনের পর ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কাশফুল হালকা হতে থাকে। উৎসবের আলস্যের মধ্যেই এসো মা লক্ষ্মী। টাকা দে মা। বউ প্যাচাল পারার চেয়ে একদিন যেন পাঁচালি পড়ে। চাঁদের আলোয় পৃথিবীকে সব পেয়েছির দেশ বলে মনে হয়।

কার্তিক

তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ। কালীকে নিয়ে এই লাইনগুলো লেখা। সরি কৃষ্ণকলি। ঘোর অমাবস্যা। শ্রীকান্তের অন্ধকার বর্ণনা মনে পড়ে। ইদানীং মহিলা পরিচালিত কালীপূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে কারণবারির জন্য সরকার ঢালাও লাইসেন্স দিচ্ছে। আতসবাজি, রোশনাই, আর অতি অবশ্যই বুড়িমার চকলেট ব্যোম- আনন্দ ধরে না। টুনির মায়ের পোয়া বারো। ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটাগিফট্ প্রাপ্তি। প্রেমিক প্রেমিকারাও এখন ভাইফোঁটায় সামিল হচ্ছে। মুন্নাভাই বলে কথা! কার্তিক মাসে হিমের ছোঁয়াচ নিমের পাতায়। উৎসবের ক্ষণিক বিরতি। ডেকোরেটার্সের জিনিস ধোয়ামোছা হয়। রেড কার্পেট গলিতে রোদ মাখে। সুন্দর ক্রিকেট পিচ। নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে রাজনৈতিক দলগুলি এ মাসে বনধ্ ডেকে দেয়।

অগ্রহায়ণ

আগে এ মাস থেকে বছর গোনা হত। এখন বিয়ের তারিখ। ক্যাটারারের ব্যস্ততা শুরু। সুন্দরী মেয়েদের কিছু লাগবে বলতে বেশ লাগে। কিন্তু প্রজাপতিরা কিছুই মুখে দিয়ে উঠতে পারে না। সাধের লিপস্টিক। এ মাসেই নবান্ন। নতুন ধান্যে করি নবান্ন বলে চালকলা খেয়ে জীবনানন্দের কবিতা। চালের দামে হেরফের হয় না তেমন। শীত আসছে শীত আসছে হালকা ঠাণ্ডায় কাঁথামুড়ি। ঝালমুড়ি চলতেই পারে। বাড়ির ফ্যানে কাপড় জড়িয়ে রাখা। ধুলো লাগবে যে। ধনধান্যে পুষ্পে ভরা এ মাসের থিম সং।

পৌষ

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। তবে এটা জানা যে ক্রিসমাস পৌষ মাসেই হয়। বড়দিনে চা, মুড়ি আর কেক। বড়দিন থেকেই ইংরেজি নববর্ষের দিন গোনা শুরু, ফলে বাংলা তারিখ অত মনে থাকে না। দেবেন্দ্রনাথের কল্যাণে পৌষমেলা, শান্তিনিকেতন। দেহতত্ত্বের গান শুনতে শুনতে ভাবে বউ যদি ঠিকমত সাধনসঙ্গিনী হতে পারত, তবে... তবে কী মাসিমা মালপোয়া খামুবলে ভানুর প্রবেশ। অবশ্য এখন মাসিমা বলার চল নেই তেমন, বউদি নয় কাকিমা। বনভোজন মরশুম শুরু হতে থাকে। বন্যেরা বনে সুন্দর। এদিকে পাড়ায় পাড়ায় যে মাইক বাজিয়ে পিকনিক, তার আবর্জনা বাঁশি বাজিয়ে গাড়ি নিয়ে যায় বলে কুকুরদের খাদ্য সমস্যা। যাহোক এ মাসে কারও প্রতি রাগ পুষে রাখতে নেই। নিউ ইয়ার মস্তি পুরো জমে ক্ষীর!

মাঘ

মাঘের শীতে নাকি বাঘে কাঁপে। লেপের বদলে কেউ কেউ বাঘমার্কা কম্বল গায়ে দেয়। যেমন স্লিম, তেমন সেক্সি। ঠাণ্ডা জাঁকিয়ে পড়ায় চায়ের দোকানে বিক্রি বেড়ে যায়। ট্রেনে মোজার গন্ধে করিডরে হাঁটা যায় না রাত্রে। স্নান করা নিয়ে প্রচুর মানসিক প্রস্তুতি নেবার পর এক মগ জলে এক জীবনের স্নান সম্পূর্ণ হয়। মেয়েদের যে ঠাণ্ডা লাগে না সরস্বতী পুজোর দিন সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। মুখে হলুদের আভা, অনভ্যস্ত আঁচল, মোবাইলপাণি। চাঁদা তুলে পাড়ায় পাড়ায় সরস্বতী পুজো করবার রেওয়াজ কমে গেছে। ফেসবুকীয় ঢঙে দেবীবন্দনা লাইক করুন, শেয়ার করুন, প্রেম-প্রতিহিংসা-লাভ-লোকসানে মনে রাখবেন এক মাঘে শীত যায় না

ফাল্গুন

একে তো ফাগুন মাস, দারুণ অসময়। হাওয়ায় হাওয়ায় মন উতলা আকুল। ওড়না যদি উড়তে উড়তে গাছে চড়ে বসে গল্পের মতো, দোষ তবে কার? কেন... কৃষ্ণচূড়া- রাধাচূড়ার! শীতবুড়ি চলে যাওয়ায় মন বেশ ফুরফুরে। মদনদেব বাণ মারেন। সে বাণে ধরাশায়ী কিনু গোয়ালার গলিতে থই থই রোদ্দুর। ধুলোর বুকে আলোর কোলাজ। জলতরঙ্গ। বিবাহবাসর। প্রজাপতি এ মন। আরেক ফাল্গুন ভাষা দিবস। আ মরি বাংলা ভাষা। ছেলে ইংরেজি মাধ্যম। ম্যাডাম বলেছেন আমার সোনার বাংলা রবি রক গাইতে...

চৈত্র

স্লগ ওভারে বসন্ত। সাইকেলের সামনে যে বসে থাকে তাকে নিয়ে কোথাও পৌঁছুতে ইচ্ছে করে না। শুধু চলতে থাকার ইচ্ছে সাহস যোগান দিচ্ছে। রঙ মাখাতে গিয়ে প্রথম স্পর্শের কথা বাঙালি ভোলে না কোনওদিন। রঙ খেলা যায়, কিন্তু রঙ তুলতে বড্ড চাপ। গলা শুকিয়ে যেতে থাকে সঙ্গে ঘুম ঘুম নিঝুম দুপুর। স্নান সেরে আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে কি মনে হয় না এই এবড়োখেবড়ো রঙ থাক বরং ? কেউ থাকে না। হাওয়া, লাটাই, বাইসাইকেল, ঘুড়ি, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার গল্পের মধ্যেই হারিয়ে যেতে থাকে একটা গোটা বছর। চৈত্র সেলে সরগরমে, হিসেব খাতার রোজনামচায় আবার আরেক নতুন বছর শুরুর অপেক্ষা।
কে না জানে অপেক্ষারা সবসময়ই সুন্দর।

 

Thursday, 11 April 2024

বহুরূপী

 



সে ছিল এক বহুরূপী দিন চৈত্র মাসে চড়ক পুজোর দল বাড়ি বাড়ি ঘুরতো সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন উৎসব যেন বহুরূপীদের পেছন পেছন বাচ্চাদের খুশির ছুট সারি বেঁধে হেঁটে চলা জ্যোৎস্নার পথ হ্যাজাকের আলোয় বিশিষ্ট কোনো বাড়িতে জমাটি রূপানুরাগ শিব-পার্বতী পার্বতীর সস্তা পাউডার উপচে ভেসে উঠতো দাঁড়ির রেখা বগলতলা ছিঁড়ে গেছে রঙিন নেট জামার পাড়ার রাখাল যে জন্মাষ্টমীতে গোপাল সাজতো, কালীপূজার আগে জিভ বের করে জয় মা কালী সারা গায়ে রং - ছাপ গ্রামীণ পরবে অনিবার্য ছিল রূপের বৈভব শহরেও দেখা যেত বহুরূপীদের হনুমানের লেজের পেছন পেছন বাচ্চারা ছুটছে পোয়াল দিয়ে লেজ বানানোর খেলা আমরাও যে খেলেছি ঘুড়ির লেজ মনে পড়ে রাফ খাতা ছিঁড়ে সাদা ভাত টিপে টিপে সে এক আকাশ উড়ান জয় হনুমান সিরিয়াল হত তখন এদিকে আমাদের কাছের হনুমান লঙ্কায় আগুন লাগানোর বদলে শ্যামল বিড়িতে দিচ্ছে এক টান তারপর গদা হাতে বাজারে তান্ডব নয়, হাত পেতে দিন গুজরানের আশায় পৌরাণিক চরিত্রগুলির মূর্ত রূপের এক নিদর্শন হল বহুরূপীরা আমরা তাঁদের শিল্পী বলিনি কোনোদিন আমরা তাঁদের বলিনি এক অঙ্গে এত রূপ কীভাবে ধরতে পারতেন তাঁরা?

ট্রেনের কামরায় কামরায় এখনও দেখা মেলে স্কুলছুট নন্দলালাদের খালি পা হাতে বাঁশি ঝলমলে পোশাকের ভেতরে ভেতরে এক ক্ষুধার্ত হৃদয় কামরায় লজেন্সের হকার উঠলে চোখ চলে যায় প্লাস্টিকে ভুলে যায় থেকে থেকে সে আসলে রাখাল রাজা বহুরূপীরা কেন হারিয়ে যাচ্ছে? আসলে আমাদের বিস্ময়ের পরিধি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, মুগ্ধতারা সর্বহারা আমাদের পোকেমন শৈশব ছোটাভিমের কার্টুন দেখেই সন্তুষ্ট থাকে তাদের অভিভাবকরা বহুরূপীদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে চায় না আর বিশ্বায়ন আমাদের বিনোদনের স্বরূপ পাল্টে দিয়েছে আর জীবন যেখানে জি বাংলা, বহুরূপীরা সেখানে বিলীয়মান সংস্কৃতির স্মারক হয়ে থাকবে-- এটাই স্বাভাবিক তবে শেষ কথা বলে হয়তো কিছু হয় না প্রতিটা মানুষ যখন এক অর্থে বহুরূপী, তখন এই আলোর রূপের মানুষদের মুখ বেশি বেশি দেখতে ইচ্ছে করে ভাবতে ভালো লাগে আমাদের ভারতবর্ষে শ্রীরাম সাজছেন যিনি তাঁর আসল নাম মহম্মদ!