Friday, 3 February 2017

পাতা ঝরার মরশুমে

এই শীত গেলে হয়....খুব অসুস্থ কারো সম্বন্ধে এই কথা ছোটবেলায় শুনেছি বারবার। পাতা ঝরার মরশুম ফুরিয়ে গেলে দেখা যেত অনেক জীবন সাদা কাগজে আলতা মাখানো পায়ের ছাপ রেখে চলে গেছে। খুব ঠাণ্ডা পড়ত কোচবিহারে। দিন পনেরো সূর্য মিইয়ে আছে। কোনও রকমে জল ছিটিয়ে স্নান শেষ। ড্রেন থেকে বল তুললে বারান্দায় জামা ছেড়ে রাখতে হয়। এদিকে রোজ রোজ এত সোয়েটার কোথায় পাব। ফলে দু' তিনটি শার্ট পরে মাঠে দৌড়। এই জামার বোতাম অন্য জামায়। হাতাগুলো বেশ মজার লাগত দেখতে। আমরা বলতাম দেখো মোটা হয়ে গেছি....
শীতের দিনে কেউ মারা গেলে সবাই বলতো- বাড়ির লোকের খুব কষ্ট। আর আমি ঠাকুরকে বলতাম...অনিশ্চিত নিশ্চিতকে নিয়ে কি বলা যায়! তখনও দিদিমারা নাতিদের বলে যেত- মরলে কাধ দিবি। কারো অনুপ্রেরণায় শববাহী গাড়ির প্রচলন হয়নি তেমন। গামছাগুলো পথ হাটে। কুয়াশার মধ্যে হরিবোল মিশে যায়। একলা ল্যাম্পপোস্ট, আলো, রাস্তা, খই আর খুচরো পয়সার গল্প শোনে।
ছোটকাকা শীতের দিনে মারা গিয়েছিল। খুব ছোট ছিলাম মনেও নেই বিশেষ কিছু। মনে পড়ে মারা যাবার কিছুদিন আগে মায়ের কাছে এসে লুচি ঘুগনি খেতে চেয়েছিল। কিছুতেই ঘরে এল না সেদিন।
মা অনেক বছর ঘুগনি করেনি। ছোটকাকার শ্রাদ্ধে ছবির সামনে কমলালেবু দেওয়া হয়েছিল। খেতে ভালবাসতো তো। প্রতিবছর গন্ধ পাই, কমলালেবু আর ধূপকাঠির মিলিত গন্ধটা.... চোখে জল আসে না। ভালোবাসা ধুলো মাখে।
ভাবি আমার যা প্রিয় আমার পর তা কেউ মনে রাখবে?

No comments:

Post a Comment