Friday, 3 February 2017

টেলিফোন

বুথ বলতে ভোট, আর টেলিফোন। আমাদের ল্যান্ডলাইন ছিল না। তুষার কাকুদের ছিল। তারাই আমাদের ডেকে দিত। ছুট ছুট। ডিমের কুসুম পাতে। হলদে হাতে কলতলা পেরিয়ে, আমবাগানের মুকুল গন্ধে সেই বাড়ি। রিসিভার ধরে থাকলে সেই ডাক আর দশ মিনিট পরে করবে সেই ডাক আলাদা করতে পারতাম। ফোন রিসিভ করা যায় কিন্তু....ফোন করতে বাধোবাধো ঠেকতো। চলার পথে এগরোলের মতোই গজিয়ে উঠলো মুস্কিল আসান টেলিফোন বুথ। ঘরের মধ্যে ঘর বলতে মশারি আর এই বুথ। রাত ন টার পর লম্বা লাইন। একজন তিনটের বেশি ফোন করতে পারবেন না একবারে এই সময়ে। বেশি লাইন হলে সময় বরাদ্দ হতো। কাচের বাক্সে মানুষটি। মিটার উঠছে। আমাদের শহরে ট্যাক্সি ছিল না। মিটার বলতে ইলেকট্রিকের আর ফোনের। আমাদের এস টি ডি, আই এস ডি- র পুরোটা মুখস্থ ছিল। প্রশ্নমঞ্চের প্রশ্ন থাকতো যে!
আমার এক বন্ধুর কথা মনে আছে, যার জন্য মালিক আলাদা একটা চেম্বারের ব্যবস্থা করেছিল। সারা দুপুর ওরা কথা বলতো। মোবাইল আসার আগেই মিসকল শুরু হয়ে গেছে। আমাদের কেউ কেউ কি বুথে ফোন রিসিভ করিনি? বুথমালিকের বিরক্তি গোফের ফাকে হাসি হয়ে গলে যায়নি কখনও?
সেই বুথটি এখন উঠে গেছে। খটাং খটাং ইন্ডিকমকেও টাটা দেখিয়েছি আমরা। বুকের মাঝে মোবাইল ফোন অনেক অপেক্ষা আর বিস্ময়কে বালিশের নিচে চাপা দিয়েছে। কাচের বাক্সগুলোয় ধুলোর পাহাড়। মাঝের লাল দাগটি অনেক রক্তক্ষরণের সাক্ষী।
ধুলোর বুকে নামের যোগচিহ্নে সেই বন্ধু আর বন্ধুনী এখন কেমন আছে কে জানে!

No comments:

Post a Comment