ভাইফোঁটার পরেই স্কুল খুলে যেত। সারাদিন হুল্লোড়ের পর মনে
পড়ত- পুজোর ছুটির হোমটাস্ক
কিছুই হয়নি যে! সব ভুলে আনন্দ করবার সেই দিনগুলো খুব মিস করি। এই যে উৎসবের মরশুম আপাতত শেষ হচ্ছে, এই নিয়ে নিশ্চয়ই আমাদের মনখারাপ হচ্ছে। কাফিদা একদিন ক্লাসে বলেছিলেন—স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হলে মনখারাপ হয়।
অবিরত উৎসবেও ক্লান্ত লাগে। এত আলো, এত আয়োজনের ভেতর নতুনভাবে বিচ্ছিন্নতা
অনুভব করি। প্রতিদিনের জীবনে যে দূরত্ব, ঈর্ষা, আড়চোখের
চাউনিকে সহ্য করে নেওয়া যায়, উৎসবের দিনে তা বেশি করে ফুটে উঠলে
অসহায় বোধ হয়। তবে কি রুটিনমাফিক জীবনেই মুক্তি? সারা সপ্তাহ দশ ঘন্টা দৌড়ে শনিবারের কলেজ
স্ট্রিটেই মোক্ষপ্রাপ্তি? কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে ইচ্ছে করে
না। নিজেকেও না।
এত ভিড়, শব্দ, ছবির থেকে দূরে আলপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছে যে ঢাকি,
ইচ্ছে হয় তাঁর সঙ্গে যাই। ঘরে ফেরা দেখি। পাড়ার কুকুরের ল্যাজ নাড়ানো দেখি। ভ্যানরিক্সার গায়ে নায়ক-নায়িকাদের ছবি থেকে আলো ছলকে পড়ছে মাটির
উঠোনে। আবার তারা ঘুরতে বেরোবে। আগের মতো। অভ্যস্ত প্রিয় জীবন!

No comments:
Post a Comment